ইরানের সঙ্গে প্রধান প্রধান বিষয়ে ঐকমত্যের দাবি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মার্চ ২৩, ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম

পারস্য উপসাগর অঞ্চলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বার্তার পর এবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে দুই দেশ বেশ কিছু প্রধান বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় সময় সোমবার ফ্লোরিডার একটি বিমানবন্দরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের মধ্যে জোরালো আলোচনা হয়েছে। বিষয়গুলো শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে প্রধান প্রধান ইস্যুতে ঐকমত্যের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এমনকি প্রায় সব বিষয়েই আমরা একমত হতে পেরেছি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী এবং যুক্তরাষ্ট্রও একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। খুব শীঘ্রই ফোনে আবারও কথা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে গত শনিবার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইরানকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে, অন্যথায় তাদের বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। সেই বক্তব্যের পর ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্প জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী সমাধান নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং তিনি আপাতত ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা না করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ থাকলে অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা কিছুটা কমতে পারে। এদিকে সামরিক অঙ্গনে নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহে একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যের একটি ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করে। কিছু সূত্র ও ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, বিমানটি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যদিও কোনো পক্ষই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরান থেকে ব্রিটেনের ওপর সরাসরি হামলার আশঙ্কা নেই। তিনি দ্রুত উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানান এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।

অন্যদিকে কাতার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল-ইতাইবি আল-জাজিরাকে বলেন, আগামী শুক্রবার পর্যন্ত সময়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তার মতে, এই সময়ের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিতে পারে।

জেএইচআর