সৌদি আরবের আল-খারজ এলাকায় অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন।
শুক্রবার গভীর রাতে পরিচালিত এই হামলার বিষয়টি রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা।
আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ইরান এই অভিযানে একযোগে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি মার্কিন সেনাদের আবাসন ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে আঘাত হানে।
স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক ছবিতে বিমানঘাঁটির রানওয়ে এবং সংলগ্ন অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা গেছে। গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির নির্ভুল নিশানার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে আহত মার্কিন সেনাসদস্যের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০০ জনে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগে আহত হওয়া সেনাদের মধ্যে ২৭৩ জন সুস্থ হয়ে কর্মস্থলে ফিরলেও এই চার সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৩ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
এই হামলার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সৌদি আরবে মোতায়েন করা প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই হামলা ঠেকাতে কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়ে পেন্টাগনের অভ্যন্তরে বিশ্লেষণ চলছে। ওয়াশিংটন এই হামলার কড়া জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সামরিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে।
জেএইচআর