ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা, জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকের পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মার্চ ৩০, ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম

ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে জাতিসংঘ থেকে পদত্যাগ করেছেন সংস্থাটির এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক। মোহাম্মদ সাফা নামের ওই কূটনীতিক অভিযোগ করেছেন, জাতিসংঘ এমন এক ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রস্তুতি নিচ্ছে যেখানে ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা রয়েছে। 

সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক দীর্ঘ চিঠির মাধ্যমে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান।

মোহাম্মদ সাফা ২০১৬ সাল থেকে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘প্যাট্রিয়টিক ভিশন’ (পিভিএ)-এর জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ক্যারিয়ার ত্যাগ করার পেছনে তিনি জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর একটি ‘শক্তিশালী লবির’ প্রভাবকে দায়ী করেছেন। তেহরানের একটি ছবি সংযুক্ত করে সাফা লিখেছেন, “মানুষ পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারছে না। জাতিসংঘ ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতির জন্য কাজ করছে।”

তেহরানের প্রায় এক কোটি সাধারণ মানুষের জীবনের ঝুঁকি তুলে ধরে সাফা প্রশ্ন করেন, যদি ওয়াশিংটন, বার্লিন বা লন্ডনে পারমাণবিক হামলা চালানো হতো, তবে বিশ্ব কেমন হতো? তিনি বলেন, “আমি এই তথ্য ফাঁস করার জন্য আমার ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়েছি। আমি এই মানবতাবিরোধী অপরাধের সাক্ষী বা অংশ হতে চাই না। অনেক দেরি হওয়ার আগেই একটি ‘পারমাণবিক শীতকাল’ (nuclear winter) ঠেকানোর চেষ্টা করছি।” তিনি বিশ্ববাসীকে এই ধ্বংসযজ্ঞ থামাতে রাজপথে নেমে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান।

সাফা দাবি করেন, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে তিনি ভিন্নমত পোষণ করায় তাঁকে নানা সমালোচনা ও ভিত্তিহীন অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, গাজা যুদ্ধের পর থেকে একটি বিশেষ লবি নতুন বিশ্বব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং জাতিসংঘের কিছু কর্মকর্তা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করতে চান না। এই প্রতিবাদের কারণে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মোহাম্মদ সাফার এই চাঞ্চল্যকর পদত্যাগ এবং গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর এই বক্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জেএইচআর