মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের অনন্য ভূমিকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৯:০২ এএম

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে। ইরানের সাথে পাকিস্তানের যেমন দীর্ঘ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে, তেমনি বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের কাছেও পাকিস্তানের গুরুত্ব বাড়ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল আসিম মুনির ইরানকে অন্য যেকোনো নেতার চেয়ে ভালো চেনেন। এই ব্যক্তিগত আস্থা ও কৌশলগত সম্পর্কই পাকিস্তানকে এই মধ্যস্থতার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

আলোচনার টেবিলে দুই পক্ষই নিজেদের পরিকল্পনা পেশ করেছে, তবে সেগুলোর মধ্যে বিস্তর ফারাক লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ইরান একটি ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, যেটিকে তিনি আলোচনার জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। 

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি একটি ১৫ দফা প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেছেন, যা ট্রাম্পের প্রধান আলোচকদের মতে বর্তমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারে। যদিও এই প্রস্তাবগুলোর কোনোটিই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী দুপক্ষের অবস্থান এখনও বিশাল ব্যবধানে অবস্থান করছে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

শান্তি আলোচনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, প্রস্তাবিত এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। গত বুধবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবাননজুড়ে ভয়াবহ বোমা হামলা চালিয়েছে, যাতে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে ৩০০ এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। 

এই রক্তপাত আলোচনার পরিবেশকে মেঘাচ্ছন্ন করে তুলছে। তবে আশার কথা হলো, শুক্রবার লেবানন জানিয়েছে যে তারা আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে সম্মত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র এই আলোচনাকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, তা তাদের প্রতিনিধি দলের গঠন থেকেই বোঝা যায়। ইসলামাবাদে এই আলোচনায় অংশ নিতে আসছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। কুশনারের উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ আব্রাহাম অ্যাকর্ডের সময় মধ্যপ্রাচ্যে তাঁর কূটনৈতিক দক্ষতার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল।

ইসলামাবাদের এই বৈঠকটি কেবল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা নয়, বরং এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য একটি পরীক্ষা। একদিকে মিনাব স্কুলের ট্র্যাজেডির ক্ষত নিয়ে আসা ইরানি প্রতিনিধি দল, অন্যদিকে জেডি ভ্যান্স ও জ্যারেড কুশনারের মতো তুখোড় মার্কিন আলোচক, সব মিলিয়ে এক চরম অনিশ্চয়তা ও আশার দোলাচলে দুলছে এই শান্তি আলোচনা। ১০ ও ১৫ দফার এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কি কোনো অভিন্ন সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে? এর উত্তর পেতে সারা বিশ্ব এখন ইসলামাবাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। তথ্যসুত্র: বিবিসি।

জেএইচআর