মুখোমুখি বসছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র, ইসলামাবাদজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২৬, ১০:১২ এএম
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি আলোচনা উপলক্ষে পাকিস্তান রেঞ্জার্স টহল দিচ্ছে। ছবি : রয়টার্স

দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে শান্তি আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক উপলক্ষে ইসলামাবাদজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শহরজুড়ে জারি করা হয়েছে দুই দিনের সরকারি ছুটি, মোতায়েন করা হয়েছে হাজার হাজার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান রেঞ্জার্সসহ বিভিন্ন বাহিনী টহল জোরদার করেছে।

আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জারেড কুশনার। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।

ইরানি প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর, ডিফেন্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী আকবর আহমাদিয়ান এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোল নাসের হেম্মাতি।

ইসলামাবাদে পৌঁছে মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের সদিচ্ছা রয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আমাদের আস্থা নেই।” তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি সম্মানজনক ও বাস্তবসম্মত চুক্তিতে আগ্রহ দেখায়, তাহলে ইরান ইতিবাচক সাড়া দেবে। তবে অতীত অভিজ্ঞতায় আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা বারবার ব্যর্থ হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিই প্রধান গুরুত্ব পাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, হরমুজ প্রণালী শিগগিরই জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হবে। যদিও এই আলোচনা ভবিষ্যতেও চলবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা দেননি তিনি।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও আলোচনাকে ইতিবাচক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইরান কোনো ধরনের কূটচাল চালালে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দাবি করেছেন, এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ দাবি প্রত্যাখ্যান করায় আসন্ন আলোচনার ফলাফল নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এএন