পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আবারও মুখোমুখি অবস্থানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। উত্তেজনা কমাতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান, তবে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ওয়াশিংটন।
নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইরান এই প্রস্তাব তোলে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা প্রস্তাব দেয় ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখতে হবে। এই সময়সীমা নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরলেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে আলোচনার সূত্র ধরে কূটনৈতিক সমাধানের একটি সম্ভাবনা এখনো খোলা আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এদিকে আলোচনা চললেও উত্তেজনা কমছে না। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ শুরু করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে সামরিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি প্রায় অচল করে দেয়। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা পরে ইরানও সমর্থন করে।
যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দিতে ইসলামাবাদে আবারও সংলাপে বসে দুই পক্ষ। সেখানে লেবাননের পরিস্থিতি, জব্দ সম্পদ ছাড় এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি।
ফলে যুদ্ধ থামলেও কূটনৈতিক উত্তেজনা এখনো বহাল রয়েছে আর সময়সীমা নিয়ে এই দ্বন্দ্বই নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
এএন