বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা তাদের ব্যয় সংকোচন ও ব্যবসায়িক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আবারও বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। আগামী মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি তাদের বৈশ্বিক কর্মীবাহিনীর প্রায় ১০ শতাংশ বা প্রায় ৮,০০০ কর্মী ছাঁটাই করার পরিকল্পনা করছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) এনডিটিভি ও রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম ধাপের এই বড় ছাঁটাই প্রক্রিয়া আগামী ২০ মে থেকে শুরু হতে পারে। তবে এখানেই শেষ নয়, বছরের শেষার্ধে আরও কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা রয়েছে। যদিও দ্বিতীয় ধাপের ছাঁটাইয়ের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বা তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছেন এবং কোম্পানির কাঠামোকে আরও দক্ষ ও এআই-নির্ভর করতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি খাতে মেটার এই পদক্ষেপ নতুন কিছু নয়। এর আগে অ্যামাজন প্রায় ৩০ হাজার এবং ফিনটেক কোম্পানি ব্লক তাদের বিপুল সংখ্যক কর্মী ছাঁটাই করেছে। মূলত কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক করপোরেট পদের প্রয়োজনীয়তা কমে আসছে।
প্রযুক্তি খাতের চাকরি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘লেঅফ.এওয়াইআই’ এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭৩ হাজারেরও বেশি কর্মী চাকরি হারিয়েছেন।
বর্তমানে মেটার সদর দপ্তর ক্যালিফোর্নিয়ার মেনলো পার্কে প্রায় ৭৯,০০০ কর্মী কর্মরত রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি তাদের ‘রিয়েলিটি ল্যাবস’ বিভাগ পুনর্গঠন করেছে এবং ‘অ্যাপ্লায়েড এআই’ নামে একটি নতুন ইউনিট গঠন করেছে।
এই ইউনিটটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোড লেখা এবং জটিল দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম এআই এজেন্ট তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। মূলত ব্যবস্থাপনা স্তর কমিয়ে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত আরও মজবুত করতেই মেটা এই ‘ইয়ার অব ইফিশিয়েন্সি’ বা দক্ষতা বৃদ্ধির নীতি অনুসরণ করছে।
যদিও এই বড় আকারের ছাঁটাইয়ের বিষয়ে মেটা কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত দাপ্তরিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এআই-এর জয়জয়কারের এই যুগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের পরিবর্তে প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে নিজেদের খরচ কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
জেএইচআর