হরমুজে অবাধ চলাচলের দিন শেষ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ইরানের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০৮:৫০ এএম

বিশ্ববাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে আগের মতো ‘নিঃশর্ত চলাচল’ এখন কেবলই অলীক কল্পনা বলে মন্তব্য করেছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তেহরান এই কঠোর বার্তা দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, কোনো দেশ যদি এই প্রণালি ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করে, তবে উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে ইরান তা প্রতিহত করার পূর্ণ অধিকার রাখে। আন্তর্জাতিক কোনো নিয়মই এ ক্ষেত্রে ইরানকে বাধা দিতে পারবে না।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাসের এক বক্তব্যের জবাবেই মূলত ইরানের এই প্রতিক্রিয়া। কাল্লাস দাবি করেছিলেন যে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে চলাচল সবসময় ‘উন্মুক্ত ও টোলমুক্ত’ থাকতে হবে।

এর পাল্টা জবাবে ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে নিঃশর্ত ট্রানজিট বা চলাচলের ধারণা এখন কেবলই একটি কল্পকাহিনী। বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতি এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।’

এদিকে মধ্যপ্রাচ্য কৌশলগত গবেষণা কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ গবেষক আবাস আসলানি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চলমান আলোচনা এখন পর্যন্ত কোনো আলোর মুখ দেখেনি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনমনীয় মনোভাব এবং বড় অংকের দাবির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।

আসলানি আরও উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে তেহরানের মনে গভীর সংশয় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড় দেওয়ার পরিবর্তে চাপ সৃষ্টির নীতি বজায় রাখলে এই অঞ্চলে পরিস্থিতি নতুন করে সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান এবং পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ তুঙ্গে রয়েছে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জেএইচআর