ইরান যুদ্ধে ফুরিয়ে এসেছে মার্কিন অস্ত্রভান্ডার, ফের সংঘাতে রয়েছে ঝুঁকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করায় দেশটির অস্ত্রভান্ডারে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে একাধিক বিশেষজ্ঞ ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এতে ভবিষ্যতে নতুন কোনো বড় যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র স্বল্পমেয়াদে গোলাবারুদের সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর নতুন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সাত সপ্তাহের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল’ মজুতের প্রায় ৪৫ শতাংশ ব্যবহার করেছে। একই সময়ে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘THAAD’-এর অর্ধেকের বেশি এবং ‘প্যাট্রিয়ট’ সিস্টেমের বিপুল সংখ্যক ইন্টারসেপ্টরও খরচ হয়ে গেছে।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৩০ শতাংশ, জেএএসএসএম মিসাইলের ২০ শতাংশের বেশি এবং এসএম–৩ ও এসএম–৬ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রেরও বড় একটি অংশ ব্যবহৃত হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতায় অন্তত তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিএসআইএসের সামরিক বিশ্লেষক মার্ক ক্যানসিয়ান বলেন, অতিরিক্ত গোলাবারুদ ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় দুর্বলতা তৈরি করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, চীনের মতো বড় প্রতিপক্ষের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) দাবি করেছে, যেকোনো পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের নির্দেশ বাস্তবায়নের মতো সক্ষমতা তাদের রয়েছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, অস্ত্রের পর্যাপ্ত মজুত এবং উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রাখতে নতুন চুক্তি ও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে কোনো সংকট নেই। তবে একই সময়ে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কও তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ব্যবহার ও মজুতের এই ভারসাম্যহীনতা ভবিষ্যতের বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

এএন