যুক্তরাজ্যে যে বয়সিদের সিগারেট কেনা নিষেধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ১২:২১ পিএম

যুক্তরাজ্যে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে এক অভূতপূর্ব আইন কার্যকর হওয়ার পথে। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে জন্ম নেওয়া কেউ জীবনে কখনোই বৈধভাবে সিগারেট কিনতে পারবেন না। পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের অনুমোদন পেলে এবং রাজকীয় সম্মতি মিললেই ‘তামাক ও ভেপস বিল’ আইন হিসেবে কার্যকর হবে।

এই উদ্যোগটি প্রথম ২০২৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক উপস্থাপন করেন। তার পরিকল্পনা ছিল প্রতি বছর ধূমপানের বৈধ বয়স এক বছর করে বাড়ানো, যাতে ধীরে ধীরে নতুন প্রজন্মকে সম্পূর্ণভাবে ধূমপান থেকে দূরে রাখা যায়। বর্তমানে লেবার পার্টির সরকারের অধীনে আইনটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাজ্য সরকার আগেই ২০৩০ সালের মধ্যে ইংল্যান্ডকে ধূমপানমুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যেখানে ধূমপানের হার ৫ শতাংশের নিচে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। গত কয়েক দশকে দেশটিতে ধূমপানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, ১৯৮০ এর দশকের তুলনায় এটি অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। ২০০৭ সালে পাবলিক স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ করা এবং ২০১৬ সালে সিগারেটের সাধারণ প্যাকেট বাধ্যতামূলক করাও এই অগ্রগতিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

তবে এই প্রস্তাবিত আইন নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস একে রাষ্ট্রের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ বলে সমালোচনা করেছেন এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বরিস জনসনও এই উদ্যোগকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন। সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে অবৈধ বাজার বা কালোবাজার তৈরি হতে পারে এবং সরকারের রাজস্ব কমে যেতে পারে।

বিশ্বে এ ধরনের উদ্যোগ নতুন নয়। নিউজিল্যান্ড ২০২২ সালে একই ধরনের আইন চালু করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেয়। অন্যদিকে মালদ্বীপ ২০২৫ সালে ২০০৭ সালের পর জন্ম নেওয়া নাগরিকদের জন্য ধূমপান নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে।

নতুন এই বিলের আওতায় ভেপিং বা ই-সিগারেট নিয়ন্ত্রণেও কঠোর বিধিনিষেধের প্রস্তাব রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ভেপিং সম্পূর্ণ নিরাপদ নয় এবং এটি ধূমপান ছাড়ার নির্ভরযোগ্য সমাধান হিসেবেও এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়।

এম জি