ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়, রাজা চার্লসও একমত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ১০:২৭ এএম

যুক্তরাষ্ট্র সফররত যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের সম্মানে আয়োজিত এক নৈশভোজে ইরানকে কেন্দ্র করে নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি বলেছেন, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, এ বিষয়ে ব্রিটিশ রাজা চার্লস তাঁর সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত।

হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এই নৈশভোজে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পায়। বক্তব্যে ট্রাম্প জানান, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং এটি প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থানে অনড় থাকবে।

তিনি বলেন, তাঁর প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কূটনৈতিক ও সামরিক—দুই ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্পের ভাষায়, “বর্তমান পরিস্থিতি ধীরে ধীরে ইতিবাচক দিকে যাচ্ছে এবং আমরা চাই স্থিতিশীলতা বজায় থাকুক।”

ইরানকে সরাসরি প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, অতীতে সামরিক দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, এই অবস্থান শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নয়, বরং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার স্বার্থেই এমন অবস্থান জরুরি।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, রাজা চার্লস এই ইস্যুতে তাঁর চেয়েও কঠোর মনোভাব পোষণ করেন। তাঁর ভাষায়, “এ বিষয়ে রাজা চার্লস আমার চেয়েও বেশি একমত এবং আরও দৃঢ় অবস্থানে আছেন।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ইরানবিষয়ক নীতিগত সমন্বয়ের ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের অভিন্ন অবস্থান কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

এদিকে, নৈশভোজের এই আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে সমন্বয় জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

এএন