চীন ও অন্যান্য দেশের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কুনার প্রদেশে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ৭ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন। কুনার প্রদেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মুজাফফর মুখলিস এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান যে, আহত ৮৫ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আফগান কর্মকর্তাদের দাবি, সোমবার কুনার প্রদেশের রাজধানী আসাদাবাদের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা এবং ‘সৈয়দ জামালউদ্দিন আফগান বিশ্ববিদ্যালয়’ লক্ষ্য করে মর্টার ও রকেট হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তান এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে একে ‘ভিত্তিহীন ও ভুয়া’ বলে দাবি করেছে।
পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তাদের অভিযান শুধুমাত্র সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। ইসলামাবাদ বরাবরই অভিযোগ করে আসছে যে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা বেসামরিক নাগরিক হত্যার অভিযোগ তুলেছে।
গত এপ্রিলে চীনের উরুমছিতে দুই দেশের কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর আশা করা হয়েছিল সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। কাতার, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলোও এই বিরোধ মেটাতে চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক এই হামলা সেই শান্তি প্রক্রিয়াকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে গত ১৭ মার্চ একটি নিরাময় কেন্দ্রে বড় ধরনের হামলার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় চলমান এই সংঘাতের ফলে এ পর্যন্ত প্রায় ৯৪ হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছে। সাম্প্রতিক এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা সেই মানবিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করল।
জেএইচআর