ইরানে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী সার এবং এর কাঁচামালের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইয়ারা’র প্রধান নির্বাহী সভেইন টোরে হোলসেথার সতর্ক করে বলেছেন, এই সংকটের ফলে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০০ কোটি মানুষের খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দরিদ্র দেশগুলো।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সার তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহ আটকে গেছে। এর ফলে বৈশ্বিক সার বাজারে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সার সংকটের কারণে কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। নাইট্রোজেন সার পর্যাপ্ত না থাকলে প্রথম মৌসুমেই ফসলের উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে এশিয়ার ধান উৎপাদনে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে সারের দাম প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইয়ারা প্রধানের মতে, খাদ্য সরবরাহ কমে গেলে ধনী ও দরিদ্র দেশের মধ্যে বৈষম্য আরও তীব্র হবে। ধনী দেশগুলো বেশি দামে খাদ্য সংগ্রহ করতে পারলেও উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশের সাধারণ মানুষ ভয়াবহ খাদ্য সংকটে পড়বে।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতের প্রভাবে ২০২৬ সালে অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষ চরম খাদ্য সংকটে পড়তে পারে। বিশেষ করে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা প্রায় ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া সার ও জ্বালানির দাম বাড়লেও কৃষকরা ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় অনেকেই চাষাবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এম জি