যুদ্ধবিরতির দ্বারপ্রান্তে তেহরান-ওয়াশিংটন, আলোচনায় বড় অগ্রগতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মে ৭, ২০২৬, ০৭:৪৩ এএম
বিলবোর্ডে শোভা পাচ্ছে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি, তার সামনে দিয়ে মোটরসাইকেলে যাচ্ছে লোকজন। তেহরান, ৬ মে ২০২৬ছবি: রয়টার্স

দীর্ঘদিনের সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনার পর অবশেষে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতার পথে এগোচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, উভয় দেশ একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকে পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে, যা কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট প্রশমনের পথ খুলে যেতে পারে।

বুধবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পর্দার আড়ালে কয়েক দফা যোগাযোগ হয়েছে। সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ভবিষ্যৎ চুক্তির জন্য আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, স্মারকটিতে মোট ১৪টি প্রস্তাবনা রয়েছে। যদিও পুরো নথি প্রকাশ করা হয়নি, তবে এতে সামরিক উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক অবরোধ ও সামুদ্রিক চলাচল নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়ে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সামরিক অভিযান সাময়িক স্থগিতের ঘোষণা দেন। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরানের বিরুদ্ধে এই অভিযান শুরু করেছিল ওয়াশিংটন।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব তেহরান পর্যালোচনা করছে। দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত থাকলেও এখনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়া হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক হবে। কারণ যুদ্ধের কারণে অস্থিতিশীল হয়ে পড়া জ্বালানি বাজারে ইতোমধ্যে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে। সমঝোতার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করেছে।

এদিকে আলোচনার পরবর্তী ধাপে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ অথবা জেনেভা শহরে দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গেছে। সেখানে চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

খসড়া সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে বলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনা চলছে। এর বিপরীতে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং জব্দ অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স, অ্যাক্সিওস, আল জাজিরা

এএন