দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অবস্থান, সামরিক যান এবং সেনা সদস্যদের লক্ষ্য করে ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২৪টি হামলা চালানোর দাবি করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানায়, তাদের এসব হামলায় ইসরায়েলি সেনা সমাবেশ, মেরকাভা ট্যাংক, ডি-নাইন বুলডোজার, সামরিক সরঞ্জাম এবং খিয়াম, দেইর সেরিয়ান, তায়র হারফা, বায়দাদ, রাশাফ ও নাকোরা সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু ছিল। গোষ্ঠীটির দাবি, ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং দক্ষিণ লেবাননের গ্রাম ও বেসামরিক এলাকায় হামলার জবাবে এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়েছে।
হিজবুল্লাহ জানায়, এসব অভিযানে ড্রোন, রকেট, কামানের গোলা এবং গাইডেড মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে। একাধিক হামলায় ‘নির্ভুল লক্ষ্যভেদ’ সফল হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনথ জানায়, লেবানন থেকে ড্রোন অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় রোববার গভীর রাতে ইসরায়েলের আপার গ্যালিলি অঞ্চলে দুই দফা বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তাদের বিমান বাহিনী লেবানন থেকে আসা একটি সন্দেহজনক আকাশযান ভূপাতিত করেছে। একই সঙ্গে তারা এই ঘটনাকে হিজবুল্লাহর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
উল্লেখ্য, ১৭ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে।
গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৪৬ জন নিহত এবং ৮ হাজার ৬৯৩ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
বর্তমানে লেবানন সীমান্তে একটি ‘বাফার জোন’ বজায় রাখার দাবি করছে ইসরায়েল। এ পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী ১৪ ও ১৫ মে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলা আসন্ন আলোচনার পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
এএন