যুদ্ধক্ষেত্রে অবিস্ফোরিত অবস্থায় পাওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি উন্নত প্রযুক্তির কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ এখন ইরানের সামরিক গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ইরানের হরমোজগান প্রদেশ থেকে সম্প্রতি দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) অন্তত ১৫টি ভারী অস্ত্র ও উচ্চপ্রযুক্তির সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি শক্তিশালী ‘জিবিইউ-৫৭ বাংকার বাস্টার’ বোমার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রায় ১৩ হাজার কেজি ওজনের এই বোমা গভীর ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে সক্ষম। এছাড়া টমাহক ক্রুজ মিসাইল, এজিএম-১৫৮ ক্ষেপণাস্ত্র এবং এমকিউ-৯ ড্রোনের কিছু অংশও পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রযুক্তি এখন ইরান ‘রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে বিশ্লেষণ করছে, যার লক্ষ্য হতে পারে নিজস্ব উন্নত অস্ত্র তৈরি করা। এর আগে ২০১১ সালে মার্কিন আরকিউ-১৭০ ড্রোন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে, যা ইরানের প্রযুক্তি আত্মস্থ করার সক্ষমতা বাড়িয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এদিকে ইরানি গণমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, এসব উন্নত প্রযুক্তি ভবিষ্যতে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা হতে পারে এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি বিনিময়ের সম্ভাবনাও রয়েছে। এতে বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে বলে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন।
অন্যদিকে বিষয়টি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত আধুনিক অস্ত্রের প্রযুক্তি ফাঁস বা পুনর্ব্যবহার ঠেকাতে ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনকে আরও কঠোর নীতিগত পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, উদ্ধারকৃত প্রযুক্তি ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
এএন