লেবার পার্টির ভেতরে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ও একের পর এক মন্ত্রীর পদত্যাগে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সবশেষ তার নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারিয়ে পদত্যাগ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, যা সরকারকে বড় ধরনের সংকটে ফেলেছে।
গত কয়েক দিনে সরকার ছাড়ার তালিকায় যোগ হয়েছেন জেস ফিলিপস, জুবির আহমেদ, অ্যালেক্স ডেভিস-জোন্স এবং মিয়াট্টা ফাহনবুলের মতো প্রভাবশালী মন্ত্রীরা। এছাড়া একই দিনে মন্ত্রিসভার ছয়জন সহকারীও পদত্যাগ করেছেন। যদিও শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নতুন নিয়োগ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটেনি।
দলের বেশ কয়েকজন এমপি প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ কিংবা নেতৃত্ব পরিবর্তনের সময়সূচি ঘোষণার দাবি তুলেছেন। তবে কিয়ার স্টারমার এখনও ১৫০ জনেরও বেশি এমপির সমর্থন পাচ্ছেন, যারা মনে করেন এখনই নেতৃত্ব পরিবর্তনের সঠিক সময় নয়। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার, ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম এবং পদত্যাগী স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের নাম আলোচনায় রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবিই এই অস্থিরতার মূল কারণ। ইংল্যান্ডে দলটি ১,১০০-এর বেশি কাউন্সিল আসন হারিয়েছে। এছাড়া ওয়েলসে দীর্ঘ ২৭ বছরের শাসনের অবসান এবং স্কটল্যান্ডে রিফর্ম পার্টির উত্থান স্টারমারের নেতৃত্বকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস সতর্ক করে বলেছেন, নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হলে দেশে চরম অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী স্টারমারও তার দলের এমপিদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, অভ্যন্তরীণ লড়াই সরকারের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলবে। তবে স্ট্রিটিং ঘনিষ্ঠরা ধারণা করছেন, খুব শিগগিরই নেতৃত্বের জন্য আনুষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ আসতে পারে।
জেএইচআর