হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের খসড়া প্রস্তাবের সমালোচনা চীনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মে ১৬, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম

হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের যৌথভাবে উত্থাপিত একটি খসড়া প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করেছে চীন। জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু কং জানিয়েছেন, খসড়া প্রস্তাবটির বিষয়বস্তু এবং সময় কোনোটিই বর্তমান প্রেক্ষাপটে সঠিক নয়। এই মুহূর্তে এটি পাস হলে তা কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না।

উত্থাপিত ওই খসড়া প্রস্তাবে মূলত ইরানকে লক্ষ্য করে হরমুজ প্রণালিতে হামলা ও মাইন স্থাপন বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের ধারণা, প্রস্তাবটি ভোটাভুটিতে গেলে চীন ও রাশিয়া যৌথভাবে ভেটো দিতে পারে। এর আগেও গত মাসে মার্কিন সমর্থনপুষ্ট একই ধরনের একটি প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছিল এই দুই পরাশক্তি। সে সময় তাদের অভিযোগ ছিল, প্রস্তাবটিতে একতরফাভাবে কেবল ইরানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

জাতিসংঘবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘পাসব্লু’-তে প্রকাশিত এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে ফু কং বলেন, “আমরা মনে করি না প্রস্তাবটির বিষয়বস্তু সঠিক, এছাড়া এটি বর্তমান সময়ের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

তিনি আরও বলেন, “এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন উভয় পক্ষকে আন্তরিক ও কার্যকর আলোচনায় বসতে উৎসাহিত করা, যাতে একটি স্থায়ী কূটনৈতিক সমাধান সম্ভব হয়। এই নাজুক পরিস্থিতিতে কোনো প্রস্তাব জোর করে পাস করালে তা সংকট সমাধানে মোটেও সহায়ক হবে না।”

ফু কং জানান, বর্তমানে ১৫ সদস্যের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে চীন। তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত হলে প্রস্তাবটি এখনই ভোটে তোলা হতো না। তবে চীনের জাতিসংঘ মিশন স্পষ্ট করেছে, প্রস্তাব উত্থাপনকারী দেশগুলো যদি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়, তবে সভাপতিত্বকারী দেশ হিসেবে নিয়ম অনুযায়ী ভোট আয়োজন করা তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। অবশ্য এখন পর্যন্ত এমন কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ আসেনি।

নিরাপত্তা পরিষদের এই টানাপোড়েন এমন এক সময়ে সামনে এলো, যার ঠিক আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাঁদের দুই দিনব্যাপী দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষ করেছেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই নেতাই এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত থাকতে হবে এবং চীন এই জলপথকে সামরিকীকরণের সম্পূর্ণ বিরোধিতা করে।

যদিও শি জিনপিং নিজে সরাসরি এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি, তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলমান ইরান সংঘাত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছে, এই যুদ্ধের কখনোই শুরু হওয়া উচিত ছিল না এবং এটি এভাবে দীর্ঘায়িত হওয়ারও কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।

জেএইচআর