‘আমি ফেঁসে গেছি, কিন্তু তুমি ফেঁসে যেয়ো না’ ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এই ছোট্ট বার্তাই এখন ৩৩ বছর বয়সী মডেল ও বিপণনকর্মী তিশা শর্মার মৃত্যুর ঘটনায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। তাঁর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে এখন সামনে আসছে তীব্র মানসিক চাপ, দাম্পত্য নির্যাতন ও যৌতুকের ভয়াবহ অভিযোগ।
ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভোপালের কাটারা হিলস এলাকায় গত ১২ মে স্বামীর বাড়ি থেকে তিশার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শুরুতে ঘটনাটিকে সাধারণ আত্মহত্যা হিসেবে দেখা হলেও, নিহত তরুণীর পরিবারের অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক বার্তা প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে।
দিল্লির বাসিন্দা তিশা পড়াশোনা শেষে বিপণন (মার্কেটিং) খাতের পাশাপাশি মডেলিং ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে সমর্থ সিং নামের এক যুবকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাঁরা বিয়ে করেন।
বিয়ের পর তিশা স্বামীর সাথে ভোপালে চলে যান। তবে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে গিয়ে তিনি চরম মানসিক অশান্তিতে ভুগছিলেন বলে জানা গেছে। মৃত্যুর কয়েক দিন আগে বন্ধুদের পাঠানো একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় তিনি নিজের অস্থিরতার কথা প্রকাশ করেন। এক বন্ধুকে তিনি লিখেছিলেন, “আমি অনেক দুশ্চিন্তায় আছি। বিয়ে মানেই নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলা নয়।” একই সঙ্গে অন্যদের সতর্ক করে তিনি বলেন, “বিয়ের সিদ্ধান্ত ভেবে-চিন্তে নিও।”
হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় তিশা তাঁর মাকেও জানান, তিনি দাম্পত্য জীবনে ‘আটকে’ আছেন এবং প্রতিনিয়ত মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। একাধিকবার তিনি মাকে এসে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার আকুতি জানান। মৃত্যুর ঠিক কয়েক দিন আগে পাঠানো এক বার্তায় তিনি লিখেছিলেন, “মা, আমার খুব দম বন্ধ লাগছে। আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও।”
পরিবারের দাবি, তিশা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর স্বামী সমর্থ সিং তাঁকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করাতে বাধ্য করেন। এমনকি ওই সন্তান নিজের নয় বলেও সমর্থ কুৎসিত অভিযোগ তোলেন। এতে তিশা মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েন। তিশার মায়ের অভিযোগ, বাইরে স্বাভাবিক আচরণ করলেও ব্যক্তিগত জীবনে সমর্থ নিয়মিত তিশাকে অপমান ও মানসিক নির্যাতন করতেন। পাশাপাশি মোটা অঙ্কের যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছে পরিবার।
পুলিশের প্রাথমিক ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঝুলন্ত অবস্থার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে তিশার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা মৃত্যুর আগের বলে চিকিৎসকেরা ধারণা করছেন।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে ইতোমধ্যে একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করেছে ভোপাল পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে নিহতের পরিবার।
জেএইচআর