ইরান যুদ্ধ

চীন-রাশিয়ার অগ্রাধিকারে ভিন্নতা এনেছে তেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৬, ১২:১৯ এএম

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বাধানো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কয়েকদিন আগেই আতিথেয়তা দিয়েছে চীন। এবার তারা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।

মঙ্গলবার রুশ প্রেসিডেন্টের বেইজিং পৌঁছানোর কথা রয়েছে। শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পুতিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক বেশ গাঢ় হলেও, চলমান ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তেল ঘিরে মস্কো ও বেইজিংয়ের ভিন্ন অগ্রাধিকার এখন সামনে আসছে।

ট্রাম্প বেইজিং সফর শেষে ঘোষণা দেন যে, ঘাটতি মেটাতে চীন আমেরিকার তেল কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু তেলের জন্য বেইজিং ওয়াশিংটনের দিকে ঝুঁকলে তা মস্কোর জন্য উদ্বেগের বিষয় হবে। কারণ, ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে চীনের কাছে তেল বিক্রি করেই বড় অঙ্কের অর্থ আয় করছে রাশিয়া। ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর রাশিয়ার তেল ও জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় পশ্চিমা দেশগুলো। এশিয়া সোসাইটির বিশ্লেষক লাইল মরিস বলছেন, এমন প্রেক্ষাপটে কিয়েভের সঙ্গে যুদ্ধ টিকিয়ে রাখতে পুতিন কোনোভাবেই চীনের সমর্থন হারাতে চাইবেন না।

অপরদিকে চীন চায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তাদের তেল আমদানির প্রধান পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ স্বাভাবিক হোক। ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সময় চীন এই জলপথ দ্রুত খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। শি জিনপিংকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে এগিয়ে আসার তাগিদও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিশ্লেষক লাইল মরিস বলছেন, এবারের সফরে পুতিন সম্ভবত শি জিনপিংয়ের কাছ থেকে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে চীনের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে বেশ আগ্রহী হবেন।

তেলের টান, ভিন্ন অবস্থান: সিঙ্গাপুরের নানয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক জেমস চার বলছেন, চীন তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে বিশ্বের প্রধান জলপথগুলোতে মুক্ত চলাচলের ওপর নির্ভরশীল। তাই তারা চাইবে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা যত দ্রুত সম্ভব শেষ হোক। অন্যদিকে, মস্কোর অবস্থান কিছুটা ভিন্ন। জেমস চারের মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে সংকট মেটাতে রুশ জ্বালানি সরবরাহের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয়েছে। ফলে ইরান যুদ্ধ থেকে মস্কো অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে। তাই এ বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা হওয়াটাই স্বাভাবিক।

রাশিয়া যে চীনে আরও বেশি জ্বালানি সরবরাহে আগ্রহী, তা সম্প্রতি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের একটি বক্তব্যেও ফুটে উঠেছে। গত মাসে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর রুশ মন্ত্রী বলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে চীন যে জ্বালানি ঘাটতিতে পড়েছে, রাশিয়া তা পূরণ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

আটলান্টিক কাউন্সিলের বিশ্লেষক জোসেফ ওয়েবস্টারের মতে, যেহেতু বেইজিং আরও বেশি রুশ জ্বালানি চাইছে, তাই এবারের বৈঠকে জ্বালানি খাতের সম্পর্ক সম্প্রসারণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। সম্প্রতি ইউক্রেন রুশ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্রমাগত হামলা চালাচ্ছে। এই অবস্থায় মস্কো বেইজিংয়ে আরও বেশি তেল পাঠাতে পারলে সেটি তাদের জন্য বিশেষভাবে লাভজনক হবে বলেও মনে করেন তিনি।

জেএইচআর