যুক্তরাজ্যের টেলিভিশন চ্যানেল ফোরের অন্যতম জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘ম্যারিড অ্যাট ফার্স্ট সাইট ইউকে’ (এমএএফএস ইউকে)-তে অংশ নিয়ে অনস্ক্রিন সঙ্গীদের মাধ্যমে ধর্ষণ ও যৌন অসদাচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিন নারী। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, অনুষ্ঠান চলাকালে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
‘ম্যারিড অ্যাট ফার্স্ট সাইট ইউকে’ এমন একটি আয়োজন, যেখানে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে সম্পূর্ণ অপরিচিত দুই ব্যক্তি প্রতীকী বিয়েতে অংশ নেন। এরপর ক্যামেরার সামনে তাঁদের সম্পর্ক, একসঙ্গে থাকা ও ব্যক্তিগত জীবন তুলে ধরা হয়। যুক্তরাজ্যের সৃজনশীল শিল্প খাতের নতুন তদারকি সংস্থার চেয়ারম্যান এই ধরনের শোকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন।
বিবিসির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, অনুষ্ঠানের কিছু পর্ব সম্প্রচারের আগেই চ্যানেল ফোর কর্তৃপক্ষ এই গুরুতর অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানত। তা সত্ত্বেও অভিযুক্তদের পর্বগুলোর সম্প্রচার ও স্ট্রিমিং অব্যাহত রাখা হয়। পরবর্তীতে বিবিসির প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর চ্যানেল ফোর ওই পর্বগুলো টিভি ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সংশ্লিষ্ট কনটেন্টও মুছে ফেলে।
ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে “লিজি” (ছদ্মনাম) নামের এক নারী অভিযোগ করেন, তাঁর অনস্ক্রিন স্বামী তাঁকে ধর্ষণ করেছেন এবং অ্যাসিড হামলার হুমকি দিয়েছেন। “ক্লোই” (ছদ্মনাম) নামের আরেক নারী দাবি করেন, ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁর সঙ্গে জোরপূর্বক যৌন আচরণ করা হয়েছে। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ওয়েলফেয়ার টিমকে জানালে শোর মনোরোগ বিশেষজ্ঞও ঘটনাটিকে ধর্ষণের শামিল বলে উল্লেখ করেন।
তৃতীয় অভিযোগকারী শোনা ম্যান্ডারসন প্রকাশ্যে নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন, শুরুর দিকে সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকলেও পরে তাঁর অনস্ক্রিন সঙ্গীর আচরণ অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণমূলক হয়ে ওঠে। রিয়েলিটি শোতে অংশ নেওয়া মানেই এমন অভিজ্ঞতার শিকার হওয়া নয় উল্লেখ করে তিনি চ্যানেল ফোরের ওয়েলফেয়ার ব্যবস্থার একটি স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছেন।
অবশ্য অভিযুক্ত পুরুষদের আইনজীবীরা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাঁদের মধ্যকার সব সম্পর্কই পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ছিল। অন্যদিকে অনুষ্ঠানটির স্বাধীন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিপিএল প্রোডাকশন দাবি করেছে, প্রতিটি পর্বে অংশগ্রহণকারীদের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রশিক্ষিত ওয়েলফেয়ার টিম ও মনোবিজ্ঞানীদের সহায়তার সুব্যবস্থা ছিল। তবে ভুক্তভোগী নারীদের অভিযোগ, বাস্তবে তাঁরা কোনো প্রয়োজনীয় সুরক্ষা পাননি। ক্যামেরার আড়ালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাগুলো মূলত রিয়েলিটি শোর অন্ধকার দিকটিকেই সামনে এনে দিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
জেএইচআর