ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সংঘর্ষ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস)-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিভিন্ন অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪২টি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ক্ষতিগ্রস্ত বা হারিয়ে যেতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সম্পদের তালিকায় রয়েছে একাধিক আধুনিক যুদ্ধবিমান ও সহায়ক বিমান। এর মধ্যে এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল, এফ-৩৫এ লাইটনিং-২, এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২, কেসি-১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং ই-৩ সেন্ট্রি আগাম সতর্কীকরণ বিমান উল্লেখযোগ্য। এছাড়া বিশেষ অভিযান ও উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত কয়েকটি বিমান ও হেলিকপ্টার এবং বিপুলসংখ্যক ড্রোনও ক্ষতির তালিকায় রয়েছে।
সিআরএস জানিয়েছে, সংঘর্ষ চলমান থাকায় এবং কিছু তথ্য এখনো গোপনীয় থাকায় ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট নয়। ফলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংস্থাটি বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিবেদন, পেন্টাগন ও সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসাব তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এখনো পুরো ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করেনি। তবে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচিত সামরিক অভিযানে ব্যয় ইতোমধ্যে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই সময়ের পর থেকেই পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করে।
এদিকে এই প্রতিবেদনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মন্তব্য করেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে তাদের দেশ গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে কোনো হামলা হলে তার আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
এএন