তাইওয়ানের জন্য প্রস্তাবিত প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় অস্ত্র বিক্রি আপাতত স্থগিত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নিজেদের গোলাবারুদ ও সামরিক মজুত পর্যাপ্ত আছে কি না-তা যাচাই করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত নৌমন্ত্রী কংগ্রেসের এক শুনানিতে জানান, চলমান সামরিক অগ্রাধিকার এবং সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ অভিযানকে বিবেচনায় রেখে অস্ত্র সরবরাহের সময়সূচি পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে, প্রয়োজন অনুযায়ী বিদেশি সামরিক বিক্রি আবার শুরু হতে পারে এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুতের ঘাটতি নেই।
প্রস্তাবিত এই অস্ত্র প্যাকেজটি অনুমোদিত হলে এটি তাইওয়ানের ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড় সামরিক সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এর চূড়ান্ত অনুমোদনের ক্ষমতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র দপ্তরের শীর্ষ পর্যায়ে।
এদিকে তাইওয়ান সরকার জানিয়েছে, তারা প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে অস্ত্র ক্রয় অব্যাহত রাখবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সাময়িক স্থগিতাদেশ তাইওয়ানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে এবং ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর চাপও বাড়াতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান নীতিনির্ধারকদের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, এই সিদ্ধান্ত শুধু সরবরাহ ব্যবস্থার বিষয় নয়, বরং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক কৌশলের অংশ। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
চীন দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে এবং দ্বীপটির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহযোগিতাকে বিরোধিতা করে।
যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে তাইওয়ানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও ১৯৭৯ সালের নীতিগত কাঠামোর আওতায় তাদের আত্মরক্ষায় সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অস্ত্র বিক্রির এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্ক এবং তাইওয়ান ইস্যুতে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
এম জি