নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ২০ মিনিটের বৈঠকে থালাপতি বিজয়ের ৩ দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মে ২৭, ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম

ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মতো নয়াদিল্লি সফরে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ থালাপতি বিজয়।

বুধবার প্রায় ২০ মিনিটের ওই বৈঠকে তিনি রাজ্যের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। যার মধ্যে মেকেদাতু বাঁধ প্রকল্প, তামিলনাড়ুর রাজ্য সংগীত এবং ঐতিহাসিক তাম্রফলক ফেরত আনার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে।

সম্প্রতি হল্যান্ড থেকে প্রাচীন তাম্রফলক ফিরিয়ে আনার ঐতিহাসিক উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ধন্যবাদ জানান থালাপতি বিজয়।

বৈঠকে তিনি কর্ণাটকের প্রস্তাবিত মেকেদাতু বাঁধ প্রকল্প নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিজয়ের মতে, দুই রাজ্যের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় একতরফাভাবে বাঁধ নির্মাণ করা হলে তামিলনাড়ুর নিম্নপ্রবাহ অঞ্চলে পানির প্রাপ্যতা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে স্পষ্ট জানান, কর্ণাটক সরকারের এমন কোনো পদক্ষেপ কাবেরী পানি বিরোধ ট্রাইব্যুনাল এবং ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের চেতনার পরিপন্থী হবে।

পাশাপাশি সরকারি অনুষ্ঠানের শুরুতে তামিলনাড়ুর রাজ্য সংগীত বাজানোর অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। তাঁর এই অনুরোধের পেছনে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নির্দেশনা রয়েছে।

ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, জাতীয় সংগীত এবং জাতীয় গান একসঙ্গে পরিবেশিত হলে প্রথমে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত ‘বন্দে মাতরম’-এর ছয়টি স্তবক গাওয়া হবে। বিজয় চান, সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত বা জাতীয় গানের পাশাপাশি তামিলনাড়ুর রাজ্য সংগীতও যাতে যথাযথ মর্যাদায় পরিবেশনের সুযোগ দেওয়া হয়।

চলতি মাসে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই ছিল থালাপতি বিজয়ের প্রথম সরকারি দিল্লি সফর। এই সফরে তিনি কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক, পানি বণ্টন এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর সামনে সরাসরি উপস্থাপন করলেন।

বিশেষ করে কাবেরী নদীর পানি বণ্টনকে ঘিরে তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকের দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রেক্ষাপটে মেকেদাতু বাঁধ প্রকল্পের বিষয়টি এই বৈঠকের মাধ্যমে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এলো।

জেএইচআর