ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ১১:১৪ এএম

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বা ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৯৫ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে।

একই সময়ে বিশ্ববাজারের সাথে তাল মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে সেখানে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৯২ দশমিক ৭৫ ডলারে।

গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। তবে সম্প্রতি লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার আগ্রাসনের জবাবে সেই চুক্তি ভেঙে এই প্রথম ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। ইসরায়েলও বসে না থেকে ইরানের ৩টি শহরে বিমান থেকে একযোগে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। এর পাশাপাশি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ)। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিয়েছে।

এপ্রিলের সেই যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা যাচ্ছিল। তবে দুই দেশের এই প্রত্যক্ষ যুদ্ধ শুরুর পর গত এক সপ্তাহ ধরেই প্রতি ব্যারেল তেলের দাম প্রায় ৯৫ ডলারের আশপাশে ঘোরাফেরা করছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে ইরানে ইসরায়েলের চালানো এই রাতের বর্বরোচিত বিমান হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা বা সহযোগিতা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন একজন উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে দেশটির একজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ওই মার্কিন কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেছেন, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর চালানো এই বিমান হামলাটি আগের হামলার তুলনায় কিছুটা ছোট আকারের ছিল।

সবচেয়ে নাটকীয় বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পেছানোর জন্য যখন জোর কূটনৈতিক তোড়জোড় ও আলোচনা চলছিল, ঠিক তখনই এই হামলাটি চালিয়ে বসে ইসরায়েল। 

হামলার ঠিক কিছুক্ষণ আগেই ট্রাম্প বিশ্ববাসীকে বার্তা দিয়েছিলেন, তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে আপাতত কোনো ধরনের পাল্টা হামলা না করার জন্য কড়া অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্পের সেই বিশেষ কূটনৈতিক অনুরোধ ও পরিকল্পনা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে ইরানে এই বিমান হামলা চালিয়ে মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিয়েছেন নেতানিয়াহু।

এএন