আড়াই ঘণ্টার নাটকীয়তা

দিল্লিতে প্রবেশ না করেই বিমানবন্দর ত্যাগ করলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ১০:২৩ এএম

ভারত সফরে গিয়ে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপ্রত্যাশিত জটিলতার মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, সম্প্রচার ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে বিমানবন্দরে আটকে রাখলেও পরে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের নির্দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার পর তিনি দিল্লিতে প্রবেশ না করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

রোববার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮ এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়, একটি সরকারি বৈঠকে যোগ দিতে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের প্রধান হিসেবে ভারতে পৌঁছানোর পর নিয়মিত ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার সময় তার নাম নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট একটি নজরদারি তালিকায় (ওয়াচলিস্ট) উঠে আসে। এর পরই তাকে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আলাদা রাখা হয়।

সূত্র জানায়, সোমবার থেকে দিল্লিতে শুরু হতে যাওয়া ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ)-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের বৈঠকে অংশ নিতে রবিবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে পৌঁছান ডা. জাহেদ উর রহমান। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল তার।

এ বিষয়ে আরও জানা গেছে, ডা. জাহেদ উর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের বিষয়টি গত শুক্রবারই দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছিল।

তবে বিমানবন্দরে অবতরণের পর পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নেয়। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষায় রাখে এবং এ সময় তিনি দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি পাবেন কি না, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

পরবর্তীতে উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে তার প্রবেশে আর কোনো বাধা না থাকলেও দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও জটিলতার প্রেক্ষাপটে তিনি ভারত সফর চালিয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রাতেই দিল্লি ত্যাগ করে কলম্বোর উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কলম্বো হয়ে সোমবার দুপুরের আগেই তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য আইওআরএ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ডা. জাহেদ উর রহমানের। তবে বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার কারণে তার সফর কার্যত মাঝপথেই শেষ হয়ে যায়।

এএন