যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে ঝড়, পদত্যাগের দ্বারপ্রান্তে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার

যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে হঠাৎ করেই ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ডাউনিং স্ট্রিটের নির্ভরযোগ্য শীর্ষ সূত্রগুলোর ইঙ্গিত অনুযায়ী, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার খুব শিগগিরই, সম্ভবত আজ সকালেই তাঁর পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন। যদিও এখনো পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি, তবে ঘনিষ্ঠ মহল থেকেও বিষয়টি অস্বীকার করা হয়নি। ফলে রাজনৈতিক মহলে চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

স্টারমার যদি সত্যিই পদত্যাগ করেন, তাহলে লেবার পার্টির পরবর্তী নেতৃত্বে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উঠে আসতে পারেন ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম। দলীয় ভেতরে বড় ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই নেতৃত্ব পরিবর্তনের একটি সম্ভাবনা এখন আলোচনায় এসেছে।

স্টারমারের সম্ভাব্য বিদায়ের পেছনে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল, অর্থনৈতিক নীতিগত অসন্তোষ এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলকে কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, দলের ভেতরে একাংশ মনে করছে আগামী নির্বাচনের আগে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যা ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে।

অ্যান্ডি বার্নহামকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক আলোচনা তীব্র হয়েছে। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করা বার্নহাম উত্তর ইংল্যান্ডে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। সম্প্রতি মেকারফিল্ড আসনের উপ-নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি আবারও ওয়েস্টমিনস্টারে ফিরেছেন।

লেবার পার্টির ভেতরে অনেকেই ‘করোনেশন’ বা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেতৃত্ব পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন, যাতে দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যায়। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বার্নহাম খুব দ্রুতই দলের নেতৃত্ব এবং সম্ভাব্যভাবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন।

দলীয় সূত্রগুলোর মতে, পুরো প্রক্রিয়া আগামী লেবার পার্টির কনফারেন্সের আগেই সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কিছু নেতা দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

বার্নহাম যদি শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হন, তবে তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভাজন দূর করা। পাশাপাশি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করাও হবে তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ডাউনিং স্ট্রিটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে তাকিয়ে আছে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ আন্তর্জাতিক মহল।

এম জি