সোমালিয়ায় চরমপন্থী গোষ্ঠী আল-শাবাবের বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে আফ্রিকান ইউনিয়নের (এইউ) সামরিক মিশনের অন্যতম প্রধান অর্থায়ন বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন।
এ সিদ্ধান্তের পর মিশনের ভবিষ্যৎ নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছে আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশন।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে আল-শাবাবের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে সোমালি সরকার। তবে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি এখনও দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। সোমালি বাহিনীকে সহায়তা দিতে আফ্রিকান ইউনিয়ন সাপোর্ট অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন মিশন ‘অসাম’ এর আওতায় বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে।
গত ১ জুলাই আফ্রিকান ইউনিয়নের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, চলতি বছরের শেষ দিকে তারা সোমালিয়ায় জাতিসংঘ সহায়তা কার্যালয় (UNSOS) এর জন্য অর্থায়ন বন্ধ করবে। এই সংস্থাই মূলত ‘অসাম’ এর তহবিলের বড় অংশ সরবরাহ করে থাকে।
আফ্রিকান ইউনিয়নে দায়িত্ব পালনকারী এক জ্যেষ্ঠ আফ্রিকান কূটনীতিক চিঠিটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। এর ফলে সোমালিয়ায় আফ্রিকান ইউনিয়নের সামরিক মিশন পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে।
ওয়াশিংটন আরও জানিয়েছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ‘অসাম’ এর জন্য ভবিষ্যতে যেকোনো রসদ ও লজিস্টিক সহায়তার প্রস্তাবও তারা সমর্থন করবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে সোমালিয়ায় জাতিসংঘের বিভিন্ন মিশনের জন্য প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার এবং আফ্রিকান বাহিনীর জন্য ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সহায়তা দিয়েছে তারা।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, সোমালি সরকারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধ ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব আল-শাবাববিরোধী অভিযানের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে। চিঠিতে বলা হয়, সরকার বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অর্জিত সাফল্য ধরে রাখতে, নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্ব নিতে এবং নিরাপত্তা খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মাহমুদ সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নিজের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ান। যদিও আগের মেয়াদ শেষ হয় ১৫ মে। বিরোধী দল ও বিভিন্ন আঞ্চলিক প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করলে রাজধানী মোগাদিশুসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।
২০২২ সালে ক্ষমতায় এসে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আল-শাবাবের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সেই সাফল্যের বড় অংশ হারিয়ে যায়। বর্তমানে মধ্য ও দক্ষিণ সোমালিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় আবারও আল-শাবাবের শক্ত অবস্থান বজায় রয়েছে।
এম জি