রাশিয়ার তেল টার্মিনালে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ১০:০৮ এএম

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি বড় তেল টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একটি অবকাঠামোকেই লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

শনিবার রাতে চালানো এ হামলার লক্ষ্য ছিল সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং এর আশপাশের কয়েকটি এলাকা। জেলেনস্কির ভাষ্য, ইউক্রেনীয় সীমান্ত থেকে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার দূরে থাকা স্থাপনাটিতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ড্রোন উড়ে যেতে এবং পরে সেখান থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।

সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেকসান্দর বেগলভ জানিয়েছেন, শহরটি ব্যাপক ড্রোন হামলার মুখে পড়ে এবং একটি তেল টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর দাবি, ওই টার্মিনালটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ তেল সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র। এর বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টন পেট্রোলিয়াম পণ্য। একই সঙ্গে তারা রাশিয়ার বাল্টিক নৌবহরের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ক্রনস্টাডেও হামলা চালানোর দাবি করেছে। তবে এ বিষয়ে রাশিয়া এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

অন্যদিকে গভর্নর বেগলভ দাবি করেছেন, সেন্ট পিটার্সবার্গ ও আশপাশের লেনিনগ্রাদ অঞ্চলে ইউক্রেনের ৭২টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল ইন্টারনেট সেবায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে ইউক্রেন। কিয়েভের দাবি, এসব অভিযানের ফলে রাশিয়ার প্রায় ৪৩ শতাংশ তেল শোধন সক্ষমতা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইউক্রেনের অবস্থান হলো, রাশিয়ার তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলো বৈধ সামরিক লক্ষ্য। কারণ জীবাশ্ম জ্বালানি রপ্তানি থেকেই দেশটির যুদ্ধ পরিচালনার বড় অংশের অর্থ আসে।

এদিকে দেশীয় বাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে নতুন একটি আইনে সই করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সম্প্রতি ইউক্রেনের হামলার প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যার বিষয়টিও বিরলভাবে স্বীকার করেছেন তিনি।

অন্যদিকে পূর্ব ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্তিয়ানতিনিভকা পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকার যে দাবি রাশিয়া করেছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে কিয়েভ। ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর আন্দ্রি কোভালিওভ জানিয়েছেন, শহরটি এখনও ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেন, রুশ বাহিনীর ছোট ছোট পদাতিক দল কিছু এলাকায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলেও তাদের শনাক্ত করে প্রতিহত করা হচ্ছে।

পরে টেলিগ্রামে জেলেনস্কি লেখেন, কোস্তিয়ানতিনিভকা যদি সত্যিই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে প্রেসিডেন্ট পুতিন সেখানে এসে তার সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। তবে তার দাবি, বাস্তব পরিস্থিতি রাশিয়ার বক্তব্যের সঙ্গে মিলছে না।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ইউক্রেনের ছোড়া ৫০০টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব হামলার জবাব দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

আগামী সপ্তাহের ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে দুই পক্ষই সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। বার্তায় তিনি দুই দেশের মধ্যে ‘গঠনমূলক সম্পর্ক’ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

সূত্র: বিবিসি

এম জি