চুমুর চেষ্টা ম্যাক্রোঁর, হাত নামিয়ে নিলেন এরদোয়ানের স্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম

ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিনে এরদোয়ানের শুভেচ্ছা বিনিময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা ও দাবি সামনে এলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ফ্রান্স বা তুরস্কের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

মঙ্গলবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের আয়োজিত নৈশ সংবর্ধনায় ঘটনাটি ঘটে। আঙ্কারার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অতিথিদের স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ও তার স্ত্রী এমিনে এরদোয়ান। অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং তার স্ত্রী ব্রিজিত ম্যাক্রোঁও উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় ম্যাক্রোঁ এমিনে এরদোয়ানের হাত ধরে সামনের দিকে ঝুঁকে যান। ঠিক সেই মুহূর্তে এমিনে এরদোয়ান দ্রুত নিজের হাত নিচে নামিয়ে নেন। এরপর দুজন স্বাভাবিকভাবে করমর্দন করেন এবং সৌজন্য বিনিময় করেন।

ভিডিওটি প্রকাশের পর অনেক ব্যবহারকারী দাবি করেন, ম্যাক্রোঁ সম্ভবত এমিনে এরদোয়ানের হাতে চুমু দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, যা তিনি এড়িয়ে যান। তবে ভিডিওটি নিয়ে এমন ব্যাখ্যার বিষয়ে ফ্রান্স কিংবা তুরস্কের কোনো সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি নিয়ে অনলাইনে ভিন্ন ভিন্ন মতামত দেখা দিয়েছে। কেউ এটিকে কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও সাংস্কৃতিক রীতিনীতির পার্থক্যের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকে মনে করছেন, এটি ছিল সম্পূর্ণ একটি ভুল বোঝাবুঝি, যার সঙ্গে অন্য কোনো অর্থ জড়িত নয়।

ইউরোপের নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে ন্যাটো নেতাদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আগে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। ওই সময় জোটভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা একত্রিত হন।

জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনার পর বুধবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের মূল অধিবেশনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। সম্মেলনকে সামনে রেখে প্রতিরক্ষা ব্যয়, ইউরোপের নিরাপত্তা এবং ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর নেতারা ট্রাম্পের সমর্থন ধরে রাখা এবং সম্ভাব্য মতপার্থক্য এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন।

এএন