কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের চারটি সামরিক ঘাঁটির বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে আবারও হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। মঙ্গলবারের পর বুধবার রাতেও এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি।
আইআরজিসির বরাত দিয়ে আইআরআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘন করে দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বাহিনীর হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরানের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে কুয়েতের আরিফান ও আল সালেম ঘাঁটি এবং বাহরাইনের জাফাইর ও শেখ ইসা ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, শত্রুপক্ষ যদি ভবিষ্যতে আবারও আগ্রাসী পদক্ষেপ নেয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও আরও কঠোর অভিযান চালানো হবে।
এর আগে ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলে গত ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছিল আইআরজিসি। ওই ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণ ইরান ও হরমুজ প্রণালি এলাকায় ইরানের ৮০টি সামরিক স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম।
মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে অল্প সময়ের মধ্যেই কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায় আইআরজিসি। এরপরও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকে।
এরই মধ্যে বুধবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ হয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর বুধবার দ্বিতীয় দফায় ইরানে হামলা চালায় সেন্টকম।
আইআরজিসির কর্মকর্তাদের দাবি, বুধবারের মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই কুয়েত ও বাহরাইনে দ্বিতীয় দফায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এএন