ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

কল রেকর্ড ও হোটেল বিলই পরকীয়ার প্রমাণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম

ভারতে পরকীয়া ফৌজদারি অপরাধ না হলেও, এ ধরনের সম্পর্কের অভিযোগ প্রমাণে ফোনের কল রেকর্ড এবং হোটেলের বিল গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আদালত আরও বলেছেন, স্বামী বা স্ত্রী চাইলে বিবাহিত সঙ্গীর এসব তথ্য আদালতের মাধ্যমে উপস্থাপনের সুযোগ থাকা উচিত।

বুধবার এক মামলার শুনানিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এ পর্যবেক্ষণ দেন। বিচারপতি শীর্ষ মনমোহন ও বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ বলেন, ফোনের কল রেকর্ড এবং হোটেলের বিল পরকীয়ার অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক প্রমাণ হতে পারে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালে রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরের এক নারী তার স্বামীর বিরুদ্ধে পরকীয়া ও পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে পারিবারিক আদালতে বিচ্ছেদের মামলা করেন। তিনি দাবি করেন, তার স্বামীর কল রেকর্ড এবং হোটেলের বিল পর্যালোচনা করলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে।

ওই নারী মামলার প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজও চেয়েছিলেন। তবে মামলা দায়েরের আগেই হোটেলের ডেটাবেস থেকে সেই ফুটেজ মুছে যাওয়ায় তা আর পাওয়া যায়নি।

পরে তিনি পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে স্বামীর কল রেকর্ড ও হোটেলের বিলের তথ্য চেয়ে আবেদন করেন। আদালতও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এসব তথ্য মুখবন্ধ খামে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

তবে অভিযুক্ত স্বামী দাবি করেন, তার কল রেকর্ড ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হলে তা তার মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন হবে। পরবর্তীতে বিষয়টি হাইকোর্ট হয়ে সুপ্রিম কোর্টে গড়ায়।

শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট অভিযুক্তের এ যুক্তি গ্রহণ করেননি। আদালত বলেন, সংশ্লিষ্ট নথিগুলো পরকীয়ার অভিযোগ যাচাইয়ে প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এর আগে দিল্লি হাই কোর্টও মন্তব্য করেছিল, অভিযোগকারী নারী নিজের দাবির পক্ষে প্রাসঙ্গিক তথ্য উপস্থাপন করতে চাইছেন। তাই আদালতে এসব তথ্য জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আপত্তির সুযোগ নেই। সুপ্রিম কোর্টও সেই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে একমত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে পরকীয়াকে ফৌজদারি অপরাধের তালিকা থেকে বাদ দেয়। আদালত তখন বলেছিলেন, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক বিবাহিত নারী বা পুরুষ স্বেচ্ছায় পরকীয়ায় জড়ালে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।

এম জি