জুয়ার নেশার টাকা জোগাতে ভুয়া পরিচয়ে একে একে ১৪ জন পুরুষকে বিয়ে করে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে জিয়াইং চেন নামে ৩৩ বছর বয়সী এক চিনা নারী আদালতে এই প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন।
তবে আদালতের প্রসিকিউশনের সঙ্গে বিশেষ সমঝোতা হওয়ায় তাঁর বড় ধরনের কারাদণ্ডের বদলে পর্যবেক্ষণাধীন মুক্তি বা প্রবেশন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত চেন ২০১৯ সালের মার্চ থেকে নেভাদা অঙ্গরাজ্যের ক্লার্ক কাউন্টিতে মোট ১৪টি বিয়ের সনদ সংগ্রহ করেন। তিনি ‘ভিকি লিয়াং’ নামে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন পুরুষকে প্রথমে প্রেমের ফাঁদে ফেলতেন এবং দ্রুত বিয়ের প্রস্তাব দিতেন। বিয়ের পরপরই তিনি দাবি করতেন যে, চীনে থাকা তাঁর অসুস্থ আত্মীয়দের চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে অনেক টাকা প্রয়োজন।
এই আবেগঘন অজুহাতে তিনি স্বামীদের কাছ থেকে মোট ১ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি হাতিয়ে নেন। পরে পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে, ওই টাকা কোনো চিকিৎসার জন্য নয়, বরং লাস ভেগাসের বিলাসবহুল ‘উইন ক্যাসিনো’তে জুয়া খেলে উড়িয়েছেন তিনি। শুধু গত এক বছরেই চেন জুয়া খেলায় ৩ লাখ ডলারের বেশি অর্থ হেরেছেন।
জিজ্ঞাসাবাদে চেন পুলিশকে জানান, লাস ভেগাসে বিয়ের নিয়ম সহজ হওয়ায় তিনি এই শহরটিকে প্রতারণার কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেন। একেকটি ভুয়া বিয়ে থেকে তিনি সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত হাতিয়ে নিতেন এবং টাকা পাওয়ার পরই স্বামীদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিতেন। এক ভুক্তভোগী জানান, অসুস্থ আত্মীয়ের কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ৪০ হাজার ডলার নেওয়ার পরই চেন বিয়ের সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
গত ৯ জুলাই বহুবিবাহ এবং প্রতারণার অভিযোগে আদালতে দোষ স্বীকার করেন চেন। আগামী ২০ আগস্ট তাঁর সাজা ঘোষণা করা হবে। আইনে এই অপরাধে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও, দোষ স্বীকার করায় আদালতের সুপারিশে তিনি হয়তো অল্প সময়ের মধ্যেই বা কোনো জেল খাটা ছাড়াই মুক্তি পেয়ে যেতে পারেন।
জেএইচআর