মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে, অন্যদিকে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবি করেছে। এদিকে হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ভারত।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দাবি অনুযায়ী, তাদের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ওই হামলায় একজন ভারতীয় নাবিক নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনার পর ভারত সরকার কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়ে নয়াদিল্লিতে ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক অভিযান চালিয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কিশ ও কেশম দ্বীপ, বুশেহর এবং বন্দর আব্বাস এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার বিষয়ে এখনো বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে থাকা দুটি বিশাল তেলবাহী সুপারট্যাংকারেও হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোর বিরুদ্ধে আবারও নৌ অবরোধ কার্যকর করা হবে। পাশাপাশি তিনি ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্র নেবে এবং এ সেবার জন্য ২০ শতাংশ ফি আরোপ করা হবে।
ক্রমবর্ধমান পাল্টাপাল্টি হামলা ও কূটনৈতিক উত্তেজনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
এএন