অং সান সুচির জীবিত থাকা নিয়ে রহস্য, উদ্বেগে আন্তর্জাতিক মহল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

মিয়ানমারের কারাবন্দি গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সুচিকে ২০২২ সালের পর আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে তার কোনো নির্ভরযোগ্য খোঁজ না মেলায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ৮১ বছর বয়সী এই নেত্রী এখনও জীবিত আছেন, নাকি তার মৃত্যু হয়েছে?

গত কয়েক মাস ধরে সুচির ছেলে কিম অ্যারিস বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে তার মায়ের জীবিত থাকার প্রমাণ প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার সুচির অবস্থান কিংবা শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য দিচ্ছে না। তাদের এই নীরবতা রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে।

সামরিক অভ্যুত্থানের পর তার বিরুদ্ধে পরিচালিত বিচার প্রক্রিয়ার শেষ দিনে সর্বশেষ জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল অং সান সুচিকে। এরপর থেকে তার আইনজীবীদেরও সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

চলতি বছরের এপ্রিলে জান্তা সরকার দাবি করেছিল, সুচিকে গৃহবন্দি রাখা হয়েছে। কিন্তু তাকে দেখতে চেয়ে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের করা অনুরোধ বারবার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এদিকে গৃহবন্দি অবস্থার যে ছবি প্রকাশ করা হয়েছিল, সেটির সত্যতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন কিম অ্যারিস। তার ভাষ্য, যদি তার মা গৃহবন্দি থেকেও থাকেন, তবে তা ইয়াঙ্গুনের পারিবারিক বাসভবনে নয়। কারণ সেই বাড়িটি আগেই ভেঙে ফেলা হয়েছে।

সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপ জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠকে সুচির প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে তিনি বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানান। এ ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলের একটি অংশের আশঙ্কা, সুচি হয়তো আর জীবিত নেই অথবা গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আছেন বলেই জান্তা সরকার তাকে প্রকাশ্যে আনতে পারছে না।

তবে নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, সুচির মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একজন নেত্রীর মৃত্যুর খবর দীর্ঘদিন গোপন রাখা বাস্তবসম্মত নয়। তাদের মতে, জান্তা প্রধানের ব্যক্তিগত বিদ্বেষের কারণেই তাকে বহির্বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, সুচিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার আড়ালে মিয়ানমারের হাজারো রাজনৈতিক বন্দির দুর্দশা চাপা পড়ে যাচ্ছে। অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্সের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জান্তা সরকারের কারাগারে সাড়ে ১৪ হাজারের বেশি রাজনৈতিক বন্দি আটক রয়েছেন। তীব্র গরম, চিকিৎসাসেবার অভাব এবং অমানবিক পরিবেশের কারণে শুধু চলতি বছরেই কারা হেফাজতে ৬০ জনের বেশি রাজনৈতিক বন্দির মৃত্যু হয়েছে।

সুচিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক বন্দিদের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি মিয়ানমারের রাজনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সূত্র: দ্য ইকোনোমিস্ট

এম জি