ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদনে ওঠা এসব দাবিকে ‘হলিউডি কল্পকাহিনি’ বলেও মন্তব্য করেছে তার কার্যালয়।
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে ঘিরে মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে করা দাবিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে আহমাদিনেজাদের গোপন যোগাযোগ রয়েছে এবং বর্তমানে তিনি ইরানে গৃহবন্দি অবস্থায় আছেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েলি গোয়েন্দারা আহমাদিনেজাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিল এবং হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে মোসাদ প্রধানের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল। এছাড়া তেহরানে প্রথম দফার সামরিক হামলার পর ইসরায়েলি এজেন্টদের সহায়তায় তাকে একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের পর বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে আহমাদিনেজাদের নাম বিবেচনা করেছিল। এমনকি যুদ্ধের শুরুর দিকে তার ওপর হওয়া বিমান হামলাকে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখানো হয় প্রতিবেদনে।
তবে এসব অভিযোগ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে মাহমুদ আহমাদিনেজাদের কার্যালয়। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও সাজানো। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ড. আহমাদিনেজাদ এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আহমাদিনেজাদের দফতর আরও অভিযোগ করে, অর্থের বিনিময়ে কুচক্রী মহলের হয়ে এমন ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে এসব দাবিকে ‘হাস্যকর ও নজিরবিহীন চিত্রনাট্য’ বলেও উল্লেখ করা হয়।
এদিকে আহমাদিনেজাদ গৃহবন্দি নন বলেও তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তিনি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে এমন বিতর্কিত খবর এর আগেও প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান কমান্ডার ইসমাইল কায়ানিকে নিয়েও নানা দাবি করা হয়েছিল, যদিও সেসবের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট থাকা আহমাদিনেজাদ ছিলেন ইসরায়েলের কঠোর সমালোচকদের একজন। তার শাসনামলে ইসরায়েলবিরোধী নানা বক্তব্যের কারণে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত ছিলেন। ফলে মোসাদের সঙ্গে তার গোপন সম্পর্কের দাবি নিয়ে ইরানপন্থী মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
এএন