আমরা যুদ্ধ চাইনি, তবে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত: ইরানের স্পিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২৬, ১২:২৪ এএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় ইরান। তবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ চলমান সংঘাতকে দেশের অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি অবশ্য এটিও স্পষ্ট করেছেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কূটনীতি ও আলোচনার পথও সমানভাবে প্রয়োজন।

সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘এখানে আসার পথে আমরা একটি ফোনকল পেয়েছি। তারা বৈঠক করতে চায়।’ তবে এই ফোনটি ঠিক কার পক্ষ থেকে এসেছে বা সম্ভাব্য আলোচনার এজেন্ডা কী, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে অত্যন্ত আগ্রহী। তবে তেহরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনই নেবে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া অন্য এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান বৈঠক করতে চায়। এখন দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি হয় কি না।

তবে আলোচনার কথা বললেও ট্রাম্প ইরানের খার্গ দ্বীপসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান আরও সম্প্রসারণের পক্ষে নিজের মত দিয়েছেন। এমনকি আইএসবিরোধী অভিযানের মতো ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকেও (আইআরজিসি) লক্ষ্যবস্তু করার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

মার্কিন হুমকির মুখে এক বিবৃতিতে ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, ইরান কখনোই যুদ্ধ চায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য যদি ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তন এবং দেশকে বিভক্ত করা হয়, তাহলে এই সংঘাত ইরানের জন্য অস্তিত্বের লড়াইয়ে পরিণত হবে।

তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধকে স্বাগত জানাইনি এবং কখনোই জানাব না। কিন্তু আমাদের সব সময় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কূটনীতি ও আলোচনার পথও খোলা রাখতে হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি তৈরি করতে ব্যবহৃত ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফা হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে প্রায় ৯০ মিনিটের এক অভিযানে গ্রেটার তুনব দ্বীপে ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতেও হামলা চালানোর দাবি করে মার্কিন বাহিনী।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সর্বশেষ মার্কিন হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

জেএইচআর