দেশের মঙ্গলে হিন্দু-মুসলিম রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকার আহ্বান অভিজিতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম

ভারতে চিকিৎসকদের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ‘নিট’ (মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তৈরি হওয়া তীব্র ক্ষোভের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (সংবাদে উল্লেখিত অভিজিৎ দীপকে)। দীর্ঘ দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের অনড় ও টানা আন্দোলনের জেরে আজ শনিবার তিনি নিজের পদ ছাড়েন।

এই আন্দোলনের পেছনে অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত ছিলেন। সেখান থেকে দেশে ফিরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করে তিনি শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করেন।

ভারতের ছাত্র ও তরুণ সমাজ একাট্টা হওয়ার কারণেই এই বিশাল সফলতা এসেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ককরোচ পার্টির প্রধান অভিজিৎ এই ঐতিহাসিক সংহতির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, দেশের হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায় যদি নিজেদের মধ্যকার ভেদাভেদ ভুলে যেকোনো যৌক্তিক ইস্যুতে এভাবে একতাবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করতে পারে, তবে এর চেয়েও বড় ও শক্তিশালী সিংহাসন কাঁপিয়ে দেওয়া সম্ভব।

নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “যদি রাজনীতিতে হিন্দু-মুসলিম বিভাজন না থাকে এবং কেবল সাধারণ মানুষের সমস্যা বা ইস্যুভিত্তিক রাজনীতি করা হয়, তবে বড় বড় ক্ষমতাধরদের সিংহাসনও কেঁপে উঠবে। আমরা যখনই এই ধর্মীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে প্রকৃত জনস্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে পারব, তখনই দেশের জন্য আসল মঙ্গল বয়ে আসবে।”

একই সাথে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারকে লক্ষ্য করে এক হুংকার ছেড়ে অভিজিৎ বলেন, “এত দিন প্রচার করা হতো যে এই সরকারের অভিধানে নাকি পদত্যাগের কোনো নিয়মই নেই। কিন্তু দুনিয়া ঠিকই মাথা নত করে; শুধু মাথা নত করানোর মতো যোগ্য মানুষ বা শক্তির প্রয়োজন হয়।”

এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি মূলত আন্দোলনকারীদের অবিচল ধৈর্য, নিয়মতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং রাজপথের অনড় অবস্থানের শক্তির কথাই পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

উল্লেখ্য, ভারতে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়ার স্বপ্ন দেখা লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জড়িয়ে থাকে অত্যন্ত কঠিন এই ‘নিট’ পরীক্ষার সাথে। ফলে এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকেই দেশজুড়ে তরুণদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

এএন