ভারতের আসামে শিক্ষার নানা অনিয়ম এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলা ছাত্র আন্দোলনকে সমর্থনের চেষ্টার অভিযোগে তিন মুসলিম যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। লখিমপুর জেলা থেকে তাদের আটক করার পর রাষ্ট্রদ্রোহ ও দেশের অখণ্ডতা বিপন্ন করার মতো বেশ কয়েকটি গুরুতর ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে। যদিও কোনো প্রকার প্রতিবাদ মিছিল বা জনসমাবেশ করার আগেই তাদের গ্রেপ্তার করা হলো।
গ্রেপ্তার হওয়া তরুণেরা হলেন লালুক থানার ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা মনজুর রহমান, আশরাফুল ইসলাম এবং আবদুল কাশেম। এদের মধ্যে মনজুর ও আশরাফুল এম.কমের শিক্ষার্থী এবং আবদুল কাশেম ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সে পড়াশোনা শেষ করে একটি স্থানীয় স্কুলে শিক্ষকতা করছিলেন। ছাত্র আন্দোলনকে সংহতি জানাতে তারা একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলেন এবং পরবর্তীতে একটি শান্তিময় কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে স্থানীয় থানায় আবেদন করেছিলেন।
এই গ্রেপ্তারের ধরণ ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আটক তরুণদের স্বজনেরা। মনজুরের বাবা মজিবুর রহমান জানান, তার ছেলে কোনো অসংবিধানিক কাজ করেনি এবং কোনো সমাবেশ করার আগেই তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্য আরেক অভিভাবক আইয়ুব আলীর অভিযোগ, কেবল মুসলিম হওয়ার কারণেই তাদের সন্তানদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে।
পুলিশ এই তিনজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা দায়ের করেছে, যার মধ্যে রাষ্ট্রদ্রোহ ও দেশের সার্বভৌমত্ব বিনষ্টের মতো কঠোর অভিযোগও রয়েছে। লালুক থানা পুলিশ আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানালেও আদালত তা খারিজ করে তাদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
এএন