নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বিহার ও আসামের পর তৃতীয় রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপ শিথিল করার পথে এগোচ্ছে। তবে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও সহিংসতার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম আগের মতোই চলবে বলে জানা গেছে।
সোমবার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজ্যে পরিচালিত পুলিশি অভিযানের সমালোচনা করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানায়, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা এর আগে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তির আশ্বাস দিয়েছিলেন। সংগঠনটির নেতারা দ্রুত সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি জানান এবং কেন্দ্রকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
সিজেপির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও আসামে আটক আন্দোলনকারীদের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মঙ্গলবারের মধ্যে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহারের পদক্ষেপ না নেওয়া হলে দেশজুড়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সংগঠনটির এই অবস্থানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রথমে বিহার সরকার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আটক আন্দোলনকারীদের মুক্তির উদ্যোগের কথা জানায়। পরে আসাম সরকারও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানায়, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া পাঁচটি মামলায় আটক ১৩ জনকে মুক্তি দেওয়া হবে। এ বিষয়ে চার দফা নির্দেশনাও জারি করা হয়েছে।
এরপর পশ্চিমবঙ্গ সরকারও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রকৃত ছাত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের কাজ শুরু হয়েছে। তবে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। যদিও ওই মামলার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর আটক রাখা হবে না বলেও জানা গেছে।
গত শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলায় নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অভিযান চালায় এবং সোমবার পর্যন্ত মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় কয়েকজন সংবাদকর্মী হামলার শিকার হন বলেও অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, ধর্মতলার বিক্ষোভে পরিকল্পিতভাবে বাইরে থেকে লোক এনে অশান্ত পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। তদন্তে অন্তত ৭০ জনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ, যাদের সঙ্গে ছাত্র আন্দোলন বা ককরোচ জনতা পার্টির কোনো সম্পর্ক নেই বলে সরকারের দাবি।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকৃত আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী এবং বিশৃঙ্খলাকারীদের আলাদা করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সে কারণেই ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি ব্যবস্থা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সহিংসতা এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকবে।
এএন