প্রধান বিচারপতি

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ে স্থায়ী ও সুদূরপ্রসারী সমাধান প্রয়োজন

বিশেষ প্রতিবেদক প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৫, ০৮:২৮ পিএম

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী ও কার্যকর সমাধান প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে বারবার সংকট সৃষ্টি না হয়। 

বুধবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) শুনানির দ্বিতীয় দিনে তিনি বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে এমন নিয়ম প্রণয়ন করতে হবে, যা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে স্থায়ী ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”

প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রবর্তন করা হয়, এটি কবে থেকে কার্যকর হবে?” তিনি উল্লেখ করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ে সুস্পষ্ট ও স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন।

শুনানিতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে দ্বিতীয় দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল ও মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয় ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট রিট খারিজ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বৈধ ঘোষণা করে। পরে ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে। রায়ের পর পঞ্চদশ সংশোধনী আইন-২০১১ পাশ হয় এবং ৩ জুলাই গেজেট প্রকাশিত হয়।

গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন পক্ষ এই রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন। এর মধ্যে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার রয়েছেন। এছাড়া নওগাঁর বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও আবেদন করেছেন।

গত ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে।

ইএইচ