রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এ আদেশ দেন।
এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তৌফিক হাসান আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আসামিপক্ষে তাদের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো অন্য আসামিরা হলেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন), মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন, মঞ্জুরুল আলম, কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল, গোলাম মোস্তফা, মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু, মো. জাকির হোসেন, মো. তৌছিফুল বারী খান, মো. আমির হোসেন সুমন, মো. আল আমিন, মো. নাজমুল আহসান, সৈয়দ শাহেদ হাসান, মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, দেওয়ান মোহাম্মদ আলী এবং মো. আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘মঞ্চ ৭১’ প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠককে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এসময় সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীসহ কয়েকজনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। পরে শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক মো. আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২৮ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে ডিআরইউ অডিটোরিয়ামে কয়েকজন ব্যক্তি আওয়ামী লীগকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে স্লোগান দেয় এবং লতিফ সিদ্দিকী বক্তব্য রাখেন। তদন্তে জানা যায়, ‘মঞ্চ ৭১’ নামের সংগঠনটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধ ও জাতীয় অর্জন রক্ষার কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করা ও অন্তর্বর্তী সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্যে সভার আয়োজন করে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বৈঠকে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিসহ ৭০-৮০ জন উপস্থিত ছিলেন। লতিফ সিদ্দিকী তার বক্তব্যে উপস্থিতদের উস্কানি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উপস্থিত জনতা আওয়ামী লীগবিরোধী স্লোগান দেয়।
ইএইচ