দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুন

বিশেষ প্রতিবেদক প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৫, ০৬:৫৯ পিএম

সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেশবাসী, আহত ব্যক্তিবর্গ এবং গণহত্যার শিকার প্রত্যেক পরিবার থেকে ক্ষমা চেয়েছেন।

মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষীর ডায়াসে দাঁড়িয়ে অশ্রুসজল চোখে সাবেক এই পুলিশপ্রধান ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। 

মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে ৩৬ নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন তিনি।

আইজিপি মামুন জবানবন্দিতে বলেন, “আমি ৩৬ বছর পুলিশে চাকরি করেছি। চাকরি জীবনে সর্বদা মানবিকতা ও সচেতনতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। তবে চাকরির শেষ পর্যায়ে এমন বড় গণহত্যা আমার দায়িত্বে সংঘটিত হওয়ায় এর দায় আমি স্বীকার করছি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে এই ঘটনার তত্ত্বাবধান হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “গণহত্যার শিকার প্রত্যেক পরিবার, আহত ব্যক্তি ও দেশবাসীর কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমাকে দয়া করে ক্ষমা করবেন।” এ সময় সাবেক আইজিপি আবেগপ্রবণ হয়ে অশ্রুসজলও হন।

মামুন বলেন, “বৈষম্যরোধী আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে ছাত্র-জনতার ওপর অতিরিক্ত বল প্রয়োগের ঘটনায় আমি পুলিশপ্রধান হিসেবে লজ্জিত ও অনুতপ্ত। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য অপরাধবোধ ও বিবেকের তাড়নায় আজ আমি রাজসাক্ষী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যান্যরা।

আজ (মঙ্গলবার) সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ১১তম। সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সাবেক আইজিপি মামুনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। আগামীকাল (৩ সেপ্টেম্বর) জেরার জন্য দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

ইএইচ