বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকৃত অর্থে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচার চাননি। যদি তিনি প্রকৃত অপরাধীদের বিচার চাইতেন, তবে ব্যক্তিগত জিঘাংসা থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করতেন না।
বৃহস্পতিবার সকালে বহুল আলোচিত মামলায় আপিল বিভাগের খালাসের রায়ের পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
কায়সার কামাল বলেন, “শেখ হাসিনা ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে তারেক রহমানকে মামলায় অন্যায়ভাবে জড়িয়েছিলেন। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে তিনি নির্দোষ। তাই আদালত তাকে খালাস দিয়েছেন।”
এর আগে, আজ সকালে আপিল বিভাগ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামির খালাসের রায় বহাল রাখেন। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
একইসঙ্গে, মামলার নতুন করে তদন্তের বিষয়ে হাইকোর্ট যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছিলেন তা বাদ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আদালত বলেছেন, নতুন তদন্ত হবে কি না, তা সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ জানুয়ারি হাইকোর্ট তারেক রহমানসহ যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ও বাবরসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সব আসামিকে খালাস দেন। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলেন, মামলার বিচার প্রক্রিয়া অবৈধ এবং চার্জশিট আইনত গ্রহণযোগ্য ছিল না।
এর আগে, ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর বিচারিক আদালত এই মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী বাবর, উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তারেক রহমানসহ আরও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং শেখ হাসিনাসহ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।
ইএইচ