টোল আদায়ে দুর্নীতি: হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: অক্টোবর ১২, ২০২৫, ০৭:৪৪ পিএম

মেঘনা ও গোমতী সেতুর টোল আদায়ের চুক্তিতে অনিয়ম ও সরকারি অর্থের ক্ষতি করার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক ছয় মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেডকে (সিএনএস) একক উৎসভিত্তিক দরপত্রের মাধ্যমে মেঘনা ও গোমতী সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এতে পূর্বের বৈধ টেন্ডার বাতিল করে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই চুক্তি সম্পাদন করা হয়। 

দুদকের তথ্যমতে, সিএনএস লিমিটেডকে মোট আদায়কৃত টোলের ১৭.৭৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এতে প্রতিষ্ঠানটি ৪৮৯ কোটি টাকার বেশি বিল গ্রহণ করে। অথচ ২০১০-২০১৫ মেয়াদে এমবিইএল-এটিটি কোম্পানি যৌথভাবে একই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে খরচ করেছিল মাত্র ১৫ কোটি টাকা। পরবর্তীতে ২০২২-২৫ মেয়াদে ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের চুক্তি ছিল ৬৭ কোটি টাকা, যা পাঁচ বছরের হিসাবে প্রায় ১১২ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এর ফলে সরকারের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩০৯ কোটি টাকারও বেশি।

অভিযোগে যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন— সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের, আনিসুল হক, প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক জলিল, উপসচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম, প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল, ইবনে আলম হাসান, মো. আফতাব হোসেন খান, মো. আব্দুস সালাম, এবং সিএনএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী, পরিচালক সেলিনা চৌধুরী ও ইকরাম ইকবাল।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তারা সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রতারণার মাধ্যমে নিজেদের বা অন্যকে অযৌক্তিকভাবে আর্থিক সুবিধা দিয়েছেন। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারার আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইএইচ