জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে মানহানি মামলার আবেদন করা হয়েছে।
সম্প্রতি বিএনপি ও দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে এ মামলার আবেদন করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলার আবেদন করেন বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদলের নিউমার্কেট থানার নেতা কাজী মুকিতুজ্জামান।
আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) নির্দেশ দিয়েছেন।
আবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর থেকে আসামি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ইচ্ছাকৃতভাবে বিএনপি ও দলের নেতৃত্বকে হেয়প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছেন। তিনি বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অপপ্রচারমূলক বক্তব্য দিয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছেন।
মামলার আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এ ধরনের বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং বিএনপির রাজনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে, ১ নভেম্বর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দাবি করেন, ‘বিএনপির একজন নেতার চাঁদাবাজির টাকা দিয়েই গণভোট আয়োজন সম্ভব’। ওই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং বিএনপি নেতারা বিষয়টি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন।
বিএনপির একাধিক নেতার ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এ ধরনের বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত মানহানিই নয়, বরং একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ।
তারা বলেন, সরকারের সহযোগিতায় নতুন কিছু দল ও সংগঠন বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্টের জন্য মাঠে নেমেছে।
অন্যদিকে, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে এ ধরনের মামলা ও পাল্টা অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। ইতিমধ্যে একাধিক রাজনৈতিক দল গণভোট ও প্রার্থিতা নিয়ে তীব্র বাকযুদ্ধে জড়িয়েছে, যার ধারাবাহিকতায় এই ঘটনাকেও তারা দেখছেন।
প্রসঙ্গত, আদালত তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে মামলাটি গ্রহণের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
ইএইচ