আইনজীবী আমির হোসেনকে ট্রাইব্যুনাল

আপনি বেশি কথা বলেন, আদালত বিব্রত হয়

আদালত প্রতিবেদক প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২৫, ০৫:২৫ পিএম

ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পলাতক চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেনের উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সতর্ক বার্তা দিয়েছেন, “আপনি বেশি কথা বলেন। এমন এমন কথা বলেন যা আদালতের জন্য বিব্রতকর হয়ে দাঁড়ায়।”

সোমবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় ছাদের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তৃতীয় দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

তিন নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শহীদ মো. নাদিম মিজানের স্ত্রী তাবাসসুম আক্তার নিহা। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামি এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের আইনজীবী সারওয়ার জাহান তাকে জেরা করেন। জেরার এক পর্যায়ে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন নাদিমের হত্যার সময় কি ঘটেছিল তা জানতে চাইলেন।

এতে ট্রাইব্যুনাল বলেন, “এতে আপনার লাভ কী হবে? তার স্বামী মারা গেছে এটাই প্রমাণ। এছাড়া আপনার আসামিদের নামও বলা হয়নি।”

রাষ্ট্রীয় আইনজীবী জবাবে বলেন, “মাই লর্ড! লাভের হিসাব অনেক দীর্ঘ। এ প্রশ্নে আমার আসামিদের লাভ হতেও পারে।”

ট্রাইব্যুনাল আরও বলেন, “আপনি বেশি কথা বলেন। এমন এমন কথা বলেন যা আদালতের জন্য বিব্রতকর হয়ে দাঁড়ায়। সাক্ষী নিহা একজন ভুক্তভোগী। তার সাক্ষ্যে আপনার আসামিরা মুক্তি পাবে না। আমরা যদি ভুল করি, তাহলে আপনারা আপিল করতে পারবেন। এটি একটি শোনা সাক্ষ্য, এবং তাঁর স্বামী মারা গেছেন। এজন্য সাক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে।”

এরপর আমির হোসেন সম্মতি জানিয়ে বাকি প্রশ্নের মাধ্যমে জেরা শেষ করেন।

দিবসে সাক্ষীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তিন বছরের ছেলে আনাস বিন নাদিম। স্বামী হত্যার পুরো বর্ণনা প্রদান শেষে নাদিমের স্ত্রী ন্যায়বিচার দাবি করেন।

মানবতাবিরোধী এ মামলায় গ্রেপ্তার আছেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। হাবিবুর রহমান ছাড়াও পলাতক তিন আসামি হলেন: খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান এবং রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। গত ১০ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

ঘটনার পটভূমি: ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় রামপুরায় একটি হোটেল থেকে বাড়ি ফিরতে গিয়ে বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে পুলিশ-বিজিবির গাড়ি দেখে আমির হোসেন একটি নির্মাণাধীন চারতলা ভবনের ছাদে ঝুলে প্রাণ বাঁচান। পুলিশ তার ওপর গুলি চালালে তিনি তিন তলায় পড়ে যান এবং আশপাশের লোকজন উদ্ধার করেন। এরপর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

একই ঘটনায় রামপুরার বনশ্রী এলাকায় নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন। পাশাপাশি মায়া ইসলামের ছয় বছর বয়সী নাতি বাসিত খান মুসা গুলিবিদ্ধ হন। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নেওয়া সত্ত্বেও শিশুটি এখনও কথা বলতে পারছে না।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, সাইমুম রেজা তালুকদারসহ অন্যান্যরা।

ইএইচ