রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে আন্দোলনকারীদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতেই মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ব্যারিস্টার ইশরাত জাহান।
রোববার মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় ৩০ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া পুলিশের ওসি মো. নূরে আলম সিদ্দিককে ট্রাইব্যুনাল-২ এ জেরা করা হলে তিনি এ দাবি করেন।
ট্রাইব্যুনাল-২ এর নেতৃত্ব দেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ, অন্য সদস্য ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
জেরার একপর্যায়ে ইশরাত জাহান ওসিকে প্রশ্ন করেন, আবু সাঈদ যখন গুলিবিদ্ধ হন, তখন তিনি কোথায় ছিলেন। ওসি নূরে আলম জানান, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেটের ভেতরে ছিলেন, যেখানে তৎকালীন এসি আরিফুজ্জামানও উপস্থিত ছিলেন। গেট খোলা ছিল এবং ছাত্র-জনতা অন্যদিকে চলে গিয়েছিল।
আইনজীবীর দাবি, দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদকে গুলিবিদ্ধ করার পেছনে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা ছিল না। তার মৃত্যুর মূল কারণ আন্দোলনকারীদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতের কারণে রক্তক্ষরণ। তবে নূরে আলম এই দাবিকে অস্বীকার করেছেন।
ওসি নূরে আলম জবানবন্দিতে জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তার দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার মুহূর্তে তৎকালীন এসি আরিফুজ্জামান টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেন। পরে আহত শিক্ষার্থীকে সহপাঠীরা অন্যদিকে সরিয়ে নেয়।
মামলার গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন: এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।
এদিন বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাক্ষ্যগ্রহণ চলে। ট্রাইব্যুনাল আগামী ১৮ নভেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছেন। এ পর্যন্ত ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে, বাকি কয়েকজনের জবানবন্দি নিয়ে কার্যক্রম শেষ হবে বলে জানানো হয়েছে।
ইএইচ