আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে আদালত ও জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।
সোমাবর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এ দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। আর আল-মামুন আসামি থেকে রাজসাক্ষী হওয়ায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পান।
ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আল-মামুন তার অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূলের নির্দেশ, রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে হত্যা, রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয়জন আন্দোলনকারীকে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা।
রায় ঘোষণা অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করেছে বাংলাদেশ টেলিভিশন। এছাড়া ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে বড় স্ক্রিনে রায় দেখানো হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ফেসবুক পেজেও লাইভ সম্প্রচার করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম মামলা হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। প্রথমে শেখ হাসিনিই একমাত্র আসামি ছিলেন। চলতি বছরের ১৬ মার্চ প্রসিকিউশন আবেদনের মাধ্যমে সাবেক আইজিপি আল-মামুনকেও আসামি করা হয় এবং ট্রাইব্যুনাল তা অনুমোদন করে।
এরপর গত ১ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ দাখিল করা হয়। রায় ঘোষণার মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করে, তিন আসামির অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে এবং যথাযথ শাস্তি কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে।
ইএইচ