হাসিনা-কামালের ফাঁসির রায়ের কপি আজ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে না

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা প্রকাশিত: নভেম্বর ১৮, ২০২৫, ১২:২১ পিএম

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের রায়ের কপি আজ সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে পাঠানো হচ্ছে না।

মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল প্রশাসন থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সূত্রমতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও সাবেক আইজিপির কাছে রায়ের কপি পাঠানোর কথা ছিল। তবে ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা অসুস্থ থাকার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।

এর আগে সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়। ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে রায় ঘোষণা করা হয়। অন্য দুই সদস্য ছিলেন—বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

ট্রাইব্যুনাল রায়ে উল্লেখ করা হয়, পাঁচটি অভিযোগ তিনটি কাউন্টে ভাগ করে আসামিদের সাজা প্রদান করা হয়েছে।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন, যেখানে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ ও ‘রাজাকারের নাতি-পুতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আসাদুজ্জামান খান কামাল, চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনসহ তৎকালীন সরকারের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ‘প্ররোচনা ও সহায়তায়’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও সশস্ত্র ‘আওয়ামী সন্ত্রাসী’ নিরীহ নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর আক্রমণ চালায়। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ‘ইমপ্রিসনমেন্ট টিল ন্যাচারাল ডেথ’ অর্থাৎ আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন।

চতুর্থ অভিযোগে গত বছরের ৫ আগস্ট চাঁনখারপুল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছয়জনকে গুলি করে হত্যা করে।

পঞ্চম অভিযোগে আশুলিয়ায় জীবিত একজনসহ ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও ঢাকার চাঁনখারপুলে ছয়জনকে হত্যা এবং আশুলিয়ায় জীবিত একজনসহ ছয়জনকে পুড়িয়ে দেওয়ার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে।